মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৩

১৮ দলের হরতাল : মিছিল-সমাবেশ, গাড়ি ভাংচুর-আগুন

চট্টগ্রাম: কঠোর নিরাপত্তায় মিছিল-সমাবেশের মধ্য দিয়ে চলছে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল। হরতাল শুরুর পর সকালে নগরীর ওয়াসা মোড়ে একটি সিএনজি অটোটেম্পুতে আগুন ধরিয়ে দেয় মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়া তারা কাজির দেউড়ি এলাকায়ও গাড়ি ভাংচুর করেছে। এর বাইরে নগরী কিংবা জেলায় আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনে মঙ্গলবার ভোর থেকে নগরীর নাসিমন ভবনসহ আশপাশের এলাকা কার্যত দখলে নিয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসব এলাকা দিয়ে রিক্সা ছাড়া অন্য কোন যানবাহন চলছে না। একই অবস্থা বহদ্দারহাট, রাহাত্তারপুলসহ আশপাশের এলাকায়ও। সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের মিছিল-সমাবেশ চলছে। নামিন ভবন এলাকায় নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুল আলম এবং চকবাজার ও কাজির দেউড়ি এলাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা  ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, রাহাত্তারপুলসহ আশপাশের এলাকায় নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেন নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে হরতালে নাশকতা ঠেকাতে প্রায় দু’হাজার অতিরিক্ত পুলিশ এবং শতাধিক বিজিবি সদস্য নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন আছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘হরতাল শুরুর পর থেকে বড় কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনিনি। তবে নাশকতা মোকাবেলায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে।’ এদিকে হরতাল শুরুর প্রথম দিকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর চট্টেশ্বরী মোড় থেকে একটি মিছিল বের করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু ও ছাত্রদল নেতা তানিমুল হক নেতৃত্বে কাজির দেউরী, লাভ লেইন এবং এনায়েত বাজার মোড় হয়ে মিছিলটি দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।  নগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার ‍মির্জা ‍সায়েম মাহমুদ বাংলানিউজকে জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওয়াসার মোড়ে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা মিছিল করে একটি সিএনজি অটোটেম্পুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মিছিলে নগর মহিলা দলের সভানেত্রী এবং সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মণি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে সিএনজি অটোরিক্সা, হিউম্যান হলার, সিটিবাস, মিনিবাসসহ গণপরিবহন চলছে। রিক্সা চলাচল একেবারেই স্বাভাবিক আছে। তবে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে সব ট্রেন। নগরীতে সরকারী-বেসরকারী অফিস, কলকারখানা খোলা আছে। তবে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।