রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৩

মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল

নিউজডেস্ক : শীর্ষ নেতাদের মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে দয়ের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই ঘোষণা দেন।  ঢাকার একটি আদালত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সাত নেতার জামিন আবেদন নাকচ করার পরপরই হরতালের এই ঘোষণা আসে।


পুলিশের ওপর হামলা, হাতবোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাংচুরের মামলায় মহানগর দায়রা জজ আদালত রোববার বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ, বরকতউল্লাহ বুলু ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে জামিন দিলেও সাতজনের আবেদন নাকচ করে দেন। নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে খন্দকার মোশাররফ ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমাদের শীর্ষ নেতারা এখনো কারাগারে। অনেকে কর্মী কারাগারে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মূল দাবি এখনো পুরণ হয়নি। এজন্য ২৩ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে সর্বাত্মক হরতাল আহবান করছি।’’ এছাড়া আগামী ২৭ এপ্রিল রাজধানীসহ সব জেলা সদরে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

জোটের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- আটক নেতা-কর্মীদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল ও সরকারের পদত্যাগ। গত ১১ মার্চ নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিরোধী দলের ১৫১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে  মির্জা ফখরুল, মওদুদ আহমদসহ আরো কয়েকজন নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়।  শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে এর আগে ১৮ ও ১৯ মার্চ, ২৭ ও ২৮ মার্চ এবং ৯ ও ১০ এপ্রিল ৩৬ ঘণ্টা করে তিন দফা হরতাল

করে ১৮ দলীয় জোট।  খন্দকার মোশাররফ বলেন, “১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়া হলেও সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না। আগামীতে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করব।”

তিন নেতা জামিন পাওয়ার পরও হরতাল ডাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন,“তিনজন নেতা জামিন পেয়েছে বলে আমরা শুনেছি। কিন্তু তারা এখনো মুক্ত বলে মনে করি না। অতীতে দেখা গেছে, এ রকম জামিন পাওয়া নেতাদের অন্য আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাছাড়া  এখনো দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন।’’ এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গণির সভাপতিত্বে জোটের মহাসচিবদ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএনপির সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, জামায়াতে ইসলামীর মজলিশে শুরা সদস্য প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়েজুল্লাহ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য সালাহউদ্দিন মতিন প্রভাষ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, পিপলস পার্টির মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া,লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি, মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল মালেক চৌধুরী, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবদুর রশীদ প্রধান, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, গণতান্ত্রিক পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, ডেমোক্রেটিক লীগের যুগ্ম  সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস বৈঠকে অংশ নেন।