নিউজডেস্ক : তেরো দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনরত হেফাজতে ইসলামকে দ্বিতীয় বার ঢাকায় জড়ো হওয়ার সুযোগ দেবে না আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীনরা মনে করছে, হেফাজতের গত ৬ এপ্রিলের লংমার্চকে ঘিরে বড় ধরনের নাশকতা, নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা ছিল। সরকারের সতর্কতার কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারে নি। তাই আগামী ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে হেফাজতকে দ্বিতীয় বার ঢাকায় আসার সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না।
প্রসঙ্গত, দাবি না মানলে আগামী ৫ মে ঢাকা অবরোধের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটানো হবে বলে শুক্রবার ফরিদপুরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হুঁশিয়ার করা হয়েছে। এজন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতেও বলেছেন হেফাজত নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে হেফাজতের ৫ মে এর অবরোধ কর্মসূচিকে সামনে রেখে তাদের কর্মকাণ্ডের উপর গভীর দৃষ্টি রাখছে সরকার। যাতে সময় মতো প্রয়োজনীয় ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এদিকে হেফাজত ঘোষিত ১৩ দফা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। সরকার এসব দাবিকে অযৌক্তিক ও মধ্যযুগীয় মনে করে। এসব দাবির কোনটিই মানবে না সরকার। একই সঙ্গে এসব দাবি নিয়ে কোন রকম বিশৃঙ্খলাও সহ্য করবে না।
যদিও দলীয় সূত্র বলছে, হেফাজতের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে কৌশলী অবস্থানে থাকবে আওয়ামী লীগ। তবে হেফাজত বেপোরোয়া হয়ে উঠলে তাদের কঠোরভাবে দমন করার কথাও ভাবছে ক্ষমতাসীন এ দল। এজন্য সার্বিক প্রস্তুতিও সেরে রাখছেন তারা। আগামী ৫ মে হেফাজত বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের দিকে গেলে তা মোকাবেলা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীরা সোচ্চার থাকবে। দলীয় নেতা-কর্মীরা জনগনকে সম্পৃক্ত করে রাজপথে তাদের মোকাবেলা করার পথেও এগুচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সূত্রে জানা যায়, তারা হেফাজতের অবরোধ কর্মসূচি মোকাবেলা করতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শক্ত অবস্থান নেবে। বিশেষ করে রাজধানীতে প্রবেশের পথগুলোতে থাকবে তারা, যাতে বাইরে থেকে হেফাজত কর্মীরা ঢাকায় এসে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে। এদিকে রাজপথে হেফাজতকে মোকাবেলার আগে তাদের অযৌক্তিক ও মধ্যযুগীয় দাবি সর্ম্পকে মানুষকে সচেতন করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। হেফাজতের সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত ইন্ধন দিচ্ছে বলে জনগণকে বোঝাতে চাইছে সরকার পক্ষ। একই সঙ্গে জামায়াত যাতে হেফাজতকে সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যবহার করতে না পারে সেদিকেও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে ক্ষমতাসীন দল। এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ মনে করে হেফাজতে ইসলাম সর্ম্পকে জনগণকে পুরোপুরি সচেতন করতে পারলে হেফাজত নিজে থেকেই বির্তকিত হয়ে জনসমর্থন হারাবে, ভাটা পড়বে আন্দোলনেও। হেফাজতের দাবির যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমরা হেফাজতের যত ন্যায্য দাবি আছে, সবগুলোই বিবেচনা করতে চাই। তবে এ বিবেচনার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই রাষ্ট্র ও সংবিধান সাপেক্ষেই কিছু করার অধিকার আছে, এর বাইরে নাই।”
৫ মে এর অবরোধ বিষয়ে আওয়ামী লীগ কি ভাবছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “ব্যবস্থা তো প্রশাসনিকভাবেই নেওয়া হবে। যাতে কোন ভাবে নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সরকার তা খেয়ালে রাখবে।” সরকারের পতন ঘটানোর হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেকেই অনেক কথা বলছে। সরকার ফেলে দেবে, অমুক করবে তমুক করবে। কিন্তু এসব কি করতে পারছে? নৈরাজ্য সৃষ্টি কেউ করতে পারবে না। করতে গেলে সরকার সেটা কৌশলে মোকাবেলা করবে।” হেফাজতের অবরোধ ও দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “হেফাজতের দাবির ব্যাপারে আমাদের ভূমিকা স্পষ্ট। আর আন্দোলনের ব্যাপারে তারা যদি কোন সংঘাত সৃষ্টি না করে, জনজীবনের জন্য ক্ষতিকর কিছু না করে তাহলে যে কোন নাগরিকের সমাবেশ করার অধিকার আছে।” তিনি বলেন, “আমরা চাইবো তারা যাতে কোন বিশৃঙ্খলা, নাশকতা ও সন্ত্রাসের ফাঁদে পা না দেয়, বিএনপি-জামায়াত জোট বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর কাজে সহায়তা না করে।”
