নিউজডেস্ক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু ছাড়া সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসব না। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিএনপি আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে টিআইবি’র শুক্রবারের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “টিআইবিও দুই নেত্রী মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে দেশে আলোচনার কোন পরিবেশ নেই।
তাই আমরা তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু ছাড়া কোন আলোচনায় বসব না।” তিনি বলেন, আলোচনা করতে হলে বিএনপির সব কেন্দ্রীয় নেতার নিঃর্শত মুক্তি ও তাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি হলেই বিএনপি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেবো। তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে পারি না দেশের প্রধান বিরোধী দলে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিনা কারণে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ দিয়ে আমাদের মিছিল, সমাবেশ পণ্ড করছে। এ ধরনের ঘটনার কোন নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আড়াই ঘন্টা ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার আজ বুঝতে পেরেছে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। আগামী নির্বাচনে তারা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এই ভেবে তারা বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেফতার করছে।” তিনি এ সময় বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, এ সরকার তাদের দুর্নীতি ও ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতে এবং তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন ফন্দিফিকির করছে। এছাড়া তারা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ দুটি দলে বিভক্ত করে ফেলেছে। মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের স্কাইপি কেলেঙ্কারি প্রকাশ করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এখানে তার কোন দোষ নেই। এটি প্রকাশ করেছিল বিদেশি ইকোনোমিস্ট পত্রিকা। আমার দেশ তার অনুবাদ ছেপেছে মাত্র।” তিনি বলেন, “এ সরকার ১৯৭২-১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করে সরকারি পত্রিকা রেখে সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। এখনো তারা সংবাদ পত্রের কণ্ঠ রোধ করতে চায়। তারা এক তরফা নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা করছে। বিএনপি তাদের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেবে না।” দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক অর্পণা রায় দাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন- কৃষক দলের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নাজিমউদ্দিন, জয়নাল আবেদিন বাবুল, রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারি, আবদুল হানিফ বাবলু প্রমুখ। মানববন্ধনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিএনপির সব নেতাকর্মীর মুক্তির দাবি জানানো হয়।
